প্রতিবেদক: মোঃ আনোয়ার হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানায় জ্বালানি তেলের তীব্র হাহাকার দেখা দিয়েছে। এলাকায় একটি মূল ফিলিং স্টেশন এবং ৬ টি মিনি পাম্প থাকলেও সেগুলোতে মিলছে না প্রয়োজনীয় ডিজেল ও পেট্রোল। ফলে একদিকে যেমন স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন, অন্যদিকে বোরো মৌসুমে সেচ ও চাষাবাদ নিয়ে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, রুহিয়া থানার আওতাধীন পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন থাকলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি। শুধু ১,০৬২ জন নিবন্ধিত মোটরসাইকেল কার্ডধারীই নন, বরং সাধারণ পথচারী ও পরিবহন চালকরাও পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। তেলের অভাবে ট্রাক্টর ও মহেন্দ্র চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন ও কৃষি কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে। এতে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক পেট্রোল চালিত সেচ পাম্প রয়েছে। ডিজেলের অভাবে কৃষকরা জমিতে পানি দিতে পারছেন না। অনেকে নিরুপায় হয়ে ব্যয়বহুল বিকল্প পদ্ধতিতে সেচের চেষ্টা করলেও তা চাহিদার তুলনায় সামান্য। স্থানীয় কৃষকরা আক্ষেপ করে বলেন, এখন আবাদের ভরা মৌসুম। এই সময়ে তেলের অভাবে জমি চাষ ও সেচ দিতে পারছি না। দ্রুত সমাধান না হলে আমাদের ফসল পুড়ে নষ্ট হয়ে যাবে। শিক্ষক ও চাকরিজীবীদের চরম ভোগান্তিতে। রুহিয়া মধুপুর কাকলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক সফিকুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি সংকটে নিজের গাড়ি রেখে অটোরিকশায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। এটা সু-সংবাদ বলবো, না দু-সংবাদ বলবো নিজেও বলতে পারছিনা। রুহিয়া থেকে ঠাকুরগাঁও শহর প্রায় ২০কিলোমিটার দুরে। ঠাকুরগাঁও শহরে পেট্রোল নিতে গেলে দীর্ঘ লাইনে পুরো দিন পার হয়ে যায়। আমরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাবো নাকি তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবো? প্রশাসনের ও সরকারের কাছে দাবী, রুহিয়া থানাধীন এই মন এনার্জি স্টেশন পাম্পে যেন পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। রুহিয়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যেখানে সকাল নয়টা হতে বিকাল ছয়টা পর্যন্ত জ্বলানি তেল দেওয়ার কথা সেখানে গত ৬ এপ্রিল এ রুহিয়া মন এনার্জি ষ্টেশন পাম্প থেকে ৫০০/- টাকার পেট্রোল পেয়েছি। তারপর ৩ দিন পর আবার ৫ লিটার দেওয়ার কথা থাকলেও অদ্যাবধি ঐ পাম্প থেকে আর কোন পেট্রোল দেওয়া হয়নি। এভাবে কি চলা যায়? একই ভোগান্তির কথা জানান আটোয়ারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুস সালাম। তিনি টানা তিনদিন ঘুরেও প্রয়োজনীয় পেট্রোল পাননি বলে জানান। তিনি আরো বলেন চলতি মাসের ২১ তারিখ থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু। আমরা পরীক্ষার সেন্টারে যাতায়াত করবো কিভাবে। আবার দুরের অন্যান্য পাম্পে তৈল নিতে গেলে দীর্ঘ লাইনে থেকে তৈল নিয়ে আসতেই দিন কেটে যায়। রুহিয়ার 'মন এনার্জি স্টেশনে'র হেড ম্যানেজার (রাশিদা কোম্পানি, পার্বতীপুর) শ্রী মানিক চন্দ্র দাস জানান, চাহিদাপত্র দেওয়া হলেও ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ মিলছে না। তিনি আরও জানান, ডিপো বর্তমানে 'লিফটিং' (পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের গড় ক্রয়) হিসাব করে জ্বালানি তেল দিচ্ছে। যেহেতু তারা এই পাম্পটি নতুন পরিচালনা করছেন, তাই বরাদ্দ পেতে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তারা বগুড়া ডিপোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এই বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল দেওয়া হচ্ছে কিন্তু কিছু অসধু ব্যাবসায়ী তেল মজুদ করে সংকট সৃষ্টি করছে। আমাদের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে তথ্য পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি নীতিমালা সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত জ্বালানী তেল সরবাহ সময়, এক্ষেত্রে এই সময়ে আমরা কর্মসংস্থানে অফিস যাব নাকি তেল কিনার জন্য ২০ কিলোমিটার পথ পারি দিয়ে ঠাকুরগাঁও শহরে যাব। শহরে গেলে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থেকে পেট্রোল নিতে দিন কেটে যায়। তবে আমরা অফিস করবো কিভাবে? কৃষকগণ কি ২০ কিলোমিটার রাস্তা পারি দিয়ে পানি সেচ পাম্প সাথে নিয়ে তেল সরবরাহের বিষয়ে শিক্ষক ও কৃষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
সারাদেশে নিয়ে আরও পড়ুন









দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।