দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ও নির্ভুল খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন নতুন দৃষ্টিতে।
সম্পাদক: মোঃ আহসান উল্লাহ | প্রকাশক: মোঃ আতাউর রহমান রুবেল |
৫৭৮, শিক্ষকপল্লী, গাইটাল, কিশোরগঞ্জ।
স্বত্ব © নতুন দৃষ্টি ২০২৫
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
প্রতিবেদক: নতুন দৃষ্টি নিউজ ডেস্ক

সিনিয়র রিপোর্টার ফজলে করিম মোঃ নাজমুজ্জামান কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার পাওয়া গেছে রেকর্ড পরিমাণ ১১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। শনিবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় দানবাক্স খোলার কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ সময় গণনা শেষে এই বিপুল অর্থের হিসাব নিশ্চিত করা হয়। মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দানবাক্স খোলার সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিসহ ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে স্থানীয় কয়েকটি ব্যাংকের প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সহায়তা নেওয়া হয়। শুধু টাকা নয়, মিলেছে স্বর্ণালংকারওনগদ অর্থের পাশাপাশি দানবাক্স থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, রুপার সামগ্রী ও বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব স্বর্ণালংকার পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভল্টে সংরক্ষণ করা হবে বলে জানা গেছে। বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক পাগলা মসজিদপাগলা মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এটি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, আশা ও মানতের এক অনন্য প্রতীক। দেশ-বিদেশ থেকে আসা ভক্তরা এখানে মানত করে থাকেন। অনেকেই ব্যক্তিগত সমস্যা, রোগমুক্তি কিংবা সফলতার আশায় দান করেন বলে জানান। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া অর্থ আগেও একাধিকবার দেশের অন্যান্য মসজিদকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে এবারের সংগ্রহকৃত অর্থ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশাসনের বক্তব্যজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দানবাক্সে পাওয়া অর্থ মসজিদের উন্নয়ন, এতিমখানা পরিচালনা, শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হবে। প্রতিবারের মতো এবারও অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সামাজিক বাস্তবতা ও বার্তা বিশ্লেষকদের মতে, পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এত বিপুল অর্থ জমা পড়া একদিকে মানুষের গভীর ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতিফলন, অন্যদিকে এটি সমাজে দান ও সহমর্মিতার সংস্কৃতির শক্ত অবস্থানকেও নির্দেশ করে। অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও সাধারণ মানুষের এই দান প্রবণতা সামাজিক মূল্যবোধের একটি শক্ত বার্তা বহন করে।
ধর্ম নিয়ে আরও পড়ুন




